১১ মে ২০১৩ - ১৯:৩০
সাভার ট্র্যাজেডি: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১৪৮

সাভারের ধসে পড়া রানা পাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে রোববার সকালে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা আবনা : সাভারের ধসে পড়া রানা পাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে রোববার সকালে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে ভবন ধসের ১৯তম দিনে উদ্ধার করা মরদেহের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৪৮ জনে। এর মধ্যে ৮২৪ জনের মরদেহ শনাক্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া সাভার অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হস্তান্তরের অপেক্ষায় আছে ১৬টি লাশ। ৫২টি লাশ রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে। এখন পর্যন্ত বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে ২৩৪টি লাশ। দুর্ঘটনাস্থলে স্থাপিত সেনাবাহীনির কন্টোলরুম সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। উদ্ধারকর্মীরা জানান, এখন যেসব লাশ উদ্ধার করা হচ্ছে, সেগুলোর অধিকাংশই গলিত, অর্ধগলিত। ফলে মরদেহ শনাক্ত ও হস্তান্তর করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এদিকে গতরাতে বৃষ্টি হওয়ায় উদ্ধারকাজে বেশ খানিকটা ব্যঘাত ঘটে। তবে সকাল থেকে আবার পুরোদমে উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যেই উদ্ধার কাজ শেষ করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। ভবনের নিচে কার পার্কিং-এ আটকে পড়া বেশ কয়েকটি গাড়ি অক্ষত রয়েছে বলে জানা গেছে। সেগুলো আজ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল চৌধুরী হাসান সোহরাওয়ার্দী  শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন রানা পাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে সব মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এ ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা উদ্ধারকাজ অব্যাহত রাখবেন। এদিকে ভবন ধসের ১৭ দিন পর শুক্রবার ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে রেশমা বেগম নামে একজন পোশাক কর্মীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়, যিনি এখন সুস্থ ও সাভার সিএমএইচে চিকিত্সাধীন আছেন বলে জানিয়েছেন সোহরাওয়ার্দী। প্রসঙ্গত, গত ২৪ এপ্রিল সকাল পৌনে ৯টার দিকে সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাছে যুবলীগ নেতা সোহেল রানার মালিকানাধীন আটতলা বাণিজ্যিক ভবন রানা পাজা ধসে পড়ে। এতে এ পর্যন্ত এক হাজার ১৪৮ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহত ও জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ২ হাজার ৪৪০ জন শ্রমিককে।